BLOG

আমাদের সন্তান - আমাদের ভবিষ্যৎ

আজকের যে শিশুটি আপনার কাছে বড় হচ্ছে সে যখন তার পেশাগত জীবনে পা রাখবে তখনকার পৃথিবী হবে আজকের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ যে সমস্ত কাজ পাবার জন্য আমরা পাগলপারা হই তার বেশীর ভাগই বিলুপ্ত হয়ে যাবে কম্পিউটার , রোবট এব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক – শেষ কবে আপনি ব্যাংকে গিয়েছিলেন? ঠিক – এখন আর আমাদের ব্যাংকে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হয় না। একটা মেশিন থেকেই আপনি টাকা তুলতে ও জমা দিতে পারেন। আপনি কি বিকাশ বা উবার নামের কাউকে চেনেন? কে সে? একটা সিস্টেম ছাড়া আর কিছু নয় কিন্তু আপনি কি লক্ষ্য করেছেন কত মানুষ এই অটোমেশনের কারণে বেকার হয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে কত যে পুরানো কাজ বন্ধ হয়ে যাবে আর কত যে নতুন কাজ আসবে সেটা আজ কেউ কল্পনাও করতে পারে না। আপনি কি চান আপনার সন্তানও কাজ না পাওয়ার দলে থাকুক। নিশ্চয়ই না। একটু ভাবুন তো – আমরা আমাদের সন্তানদের আজ যে পদ্ধতিতে লেখাপড়া শেখাচ্ছি তা-কি সেই প্রচন্ড প্রতিযোগিতাপূর্ণ পৃথিবীতে টিকতে পারবে? আমাদের সন্তানকে এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে, এমন কাজ শেখাতে হবে যা কম্পিউটার বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স করতে পারবে না। সেজন্য তাদের লাগবে কল্পনাশক্তির ক্রমাগত উন্নয়ন, প্রবলেম সলভিং ক্যাপাবিলিটি, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, এমপ্যাথি এমনি আরো অনেক মানবিক গুণাবলী। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে মানুষ থেকে কম্পিউটার বানাতে চাচ্ছে আর আমাদের হতে হবে আরো বেশী মানবিক যা এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের দিতে পারছে না। আমরা আমাদের এ শিক্ষাব্যবস্থাটিকে তো রাতারাতি বদলে ফেলতে পারবো না কিন্তু একটি এমন একটি ব্যবস্থা করতে পারি যাতে আমাদের সন্তানেরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াকে সহজভাবে খুবই অল্প সময়ে শেষ করে ফেলতে পারে খুবই সৃষ্টিশীলভাবে, মজার পদ্ধতিতে এবং যতটুকুই সেখানে ভাল জিনিষ আছে সেটিকে আনন্দের সাথে শিখতে। এতে তার প্রচুর সময় বেঁচে যাবে এবং আগামী দিনগুলির জন্য সত্যিকারভাবে সফল এবং সুখী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে। ‘আলো’র মজার লেখাপড়া – সহজ পরীক্ষা কর্মশালা আপনার সন্তানকে সাফল্যের সেই স্বর্ণালী সিঁড়ি তৈরী করে দিচ্ছে। আপনাকে ও আপনার সন্তানকে স্বাগতম আলোর ভূবনে।

লেখাপড়া. লেখাপড়া.. লেখাপড়া...

লেখাপড়ায় ভাল করতে সবাই চায়.. লেখাপড়া, সে তো শুধু ছাত্রজীবনেই সীমাবদ্ধ নয় বরং সারাজীবন ধরে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়। যে যত বেশী লেখাপড়া করবে সে জীবনে তত বেশী সফল হবে. এ লেখাপড়া বলতে তো শুধু প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার কথা বলা হচ্ছে না। আসল লেখাপড়া শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ হবার পরেই। সারাজীবনেই আমরা কাজের প্রয়োজনে লেখাপড়া করি, সবসময় কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করতে হয় আমাদের। এই চেষ্টায় কেউ কেউ বা সফল হয় কিন্তু অনেকেই সফলতার মুখ দেখে না। কারো জন্য লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করা খুব সহজ একটি কাজ কিন্তু আবার কারো জন্য বেশ কঠিন, কারো জন্য তো একেবারেই অসম্ভবের কাছাকাছি। আমরা কি জানি এমন কেন হয়? সাধারণভাবে আমরা বিষয়টিকে বেশ সরলভাবে বুঝে নেই। আমরা বলি সবার মেধা সমান নয়, কারো মেধা খুব বেশী, কারো মেধা কম। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক এত সরলভাবে বোঝা যে ঠিক নয় সেই কথাটি আমরা বুঝতে চাই না। এটি নিয়ে এখন কথা বলতে চাচ্ছি না.. অন্য কোন সময় বলবো ইন শা আল্লাহ। আপাতত বলি, যেটাকে আমরা মেধা বলছি সেটি একটি ব্যাপার হতে পারে কিন্তু এক্ষেত্রে খুব বেশী প্রভাব নেই। লেখাপড়া শিখতে গেলে, কিছু শিখতে গেলে কেবল মেধা নয়, এর সাথে সাথে লাগে কিছু কৌশল জানা। ভালো করে শেখার, মনে রাখার এবং বুঝে-শুনে সেটা কাজে লাগানোর কায়দাকৌশল যে যত ভালো করে বুঝতে ও রপ্ত করতে পারে সে লেখাপড়ায় তথাপি জীবনে তত বেশী সফল হতে পারে।